দিনলিপি এক রূপান্তরের খেলা। দৈনন্দিন সেখানে রূপ পায় অক্ষরের, নিজেকে ফুটিয়ে তোলে ভাষায়। সেই কাজটি যাঁরা করেন, তাঁদের অনেকে সাধারণ যাপনের মধ্যে থাকলেও তাঁরা নিঃসন্দেহে রূপদক্ষ, শিল্পী। কিন্তু দিনলিপিকার যখন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন সেই রূপান্তরণ পরিণত হয় জাদুতে। খুব অল্প বয়স থেকেই জার্নাল ও ডায়েরি লিখে গিয়েছেন 'পথের পাঁচালী'-র কথকঠাকুর। 'স্মৃতির রেখা', তৃণাঙ্কুর', 'উর্মিমুখর', 'উৎকর্ণ', 'হে অরণ্য কথা কও'-কে 'জার্নাল' বলেই ধরা যায়। এই সব লিখনে বিভূতিভূষণ দৈনন্দিনের সীমা পেরিয়ে বারবার প্রবেশ করেছেন অরূপ-রাজ্যে। সেই জগৎ মাঝে মাঝেই পাঠকের চেনা চৌহদ্দিকে তছনছ করে দেয়। অক্ষরের আকৃতিতে কী করে অসীমকে ধরে রাখতে হয়, সেই জাদু বিভূতিভূষণ দেখিয়ে গিয়েছেন এই সব রচনায়। তাঁর যাবতীয় জার্নাল ও ডায়েরি নিয়ে এই দুই খণ্ড ব্যাপী আয়োজনের প্রথম খণ্ডে থাকছে পূর্বোল্লিখিত রচনাসমূহ এবং 'স্মৃতির রেখা'-র পরিত্যক্ত অংশের দু'টি পর্যায়। সেই সঙ্গে থাকছে সম্পাদকের দীর্ঘ ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিক টীকা।