বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে একটি কিংবদন্তি প্রচলিত আছে যে, তিনি তাঁর সমসময়ের ঘটনাপ্রবাহ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতেন। কিন্তু সেই কিংবন্তি যে একেবারেই সত্য নয়, তা বোঝা যায় তাঁর ডায়েরির দিকে নজর করলে। ধরেবেঁধে প্রতিদিন যে ডায়েরি লিখতেন বিভূতিভূষণ, তা নয়। কখনো ওলট-পালট হয়েছে তারিখও। সে সব সত্ত্বেও তাঁর ডায়েরির আয়তন কম নয়। এই সব দিনলিপি যেন তাঁর নিজের সঙ্গে কথোপকথন। এই গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে ধরা রইল ১৯৩৩ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত ডায়েরি। যার মধ্যে আসলে কিন্তু রয়েছে আট বছরের দিনলিপি। মাঝখানে কোনও বছর বাদ গিয়েছে। বাদ গিয়েছে দিনও। তাঁর প্রয়াণ ঘটে ১৯৫০-এর ১ নভেম্বর। আর তাঁর শেষ ডায়েরি লিখন ২৫ অক্টোবর। কী লিখেছিলেন বিভূতিভূষণ সেই দিন? বিভূতি-ভক্তদের কৌতূহল থাকতেই পারে সেই বিশেষ 'এন্ট্রি'-টি নিয়ে। কৌতূহল থাকতে পারে ডায়েরিতে উল্লিখিত মানুষজনের পরিচিতি বা অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়েও। সেই কৌতূহলগুলি মেটাবে এই সংকলন। এখানে সেই আট বছরের ডায়েরিগুলির সঙ্গে সংযোজিত হয়েছে বিস্তারিত টীকাও।