সৃষ্টি-উৎপাদন-বংশবৃদ্ধি যেমন যৌনতার উদ্দেশ্য, তেমনি আনন্দ, যৌন-আনন্দ, কামনা চরিতার্থ করাও। যৌনতা প্রজননকেন্দ্রিক এবং আশ্লেষকেন্দ্রিক। শুধু বংশবৃদ্ধি নয়, পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা নয়, পুরাণ-শাস্ত্র-প্রাচীন সাহিত্য- সর্বত্রই প্রাধান্য পেয়েছে কামনাও। তান্ত্রিকেরা যে পঞ্চ-ম-কারের সাধনা করেন তাতে মৈথুনও আছে-মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা ও মৈথুন। হিন্দুদের মন্দিরগাত্রে, শাস্ত্রে-পুরাণে-সাহিত্যে অবাধ যৌনতা এসেছে। শাস্ত্রমতে এর জন্য একজন নির্দিষ্ট দেবতাও আছেন। কামদেব-মদন-কন্দর্প।
প্রাচীনকাল থেকেই ভারতবর্ষে যৌন-সম্ভোগ শাস্ত্র আলোচিত হয়ে আসছে। যাপিত জীবনে যেমন যৌনতা ব্রাত্য নয়, তেমনি সাহিত্যেও তাকে আড়াল করা হয়নি। যৌনতার সঙ্গে শ্লীল-অশ্লীলের কোনো সংযোগ নেই।
সংস্কৃত সাহিত্য-তাত্ত্বিক আলংকারিকেরা শ্লীল-অশ্লীল নিয়ে মাস্টারি করেননি কখনও। নির্জলা যৌনতাও শৈল্পিক অবয়বে প্রকাশিত হয়েছে প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে। সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা পরবর্তীকালেও বহমান।
প্রাগাধুনিক বাংলা সাহিত্য, আধুনিক উপন্যাস-ছোটোগল্প-কবিতা-নাটকের আলোচনার সূত্রে যৌনতার স্বরূপ ও নান্দনিকতাকে অনুধাবন করার চেষ্টা করেছেন প্রাবন্ধিক বিশ্বজিৎ পাণ্ডা। সাহিত্যের যৌনবৈচিত্র্য নিয়ে এরকম তথ্যসমৃদ্ধ মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ ইতিপূর্বে আমাদের নজরে পড়েনি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""