সিগমুন্ড ফ্রয়েড এক ক্ষণজন্মা কিন্তু বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর জন্মের ১৫৪ বছর পরে আজও তাঁকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠে। কিছু মানুষ আছেন যাঁরা মনে করেন ফ্রয়েড চিরকালের মত মন, মানসিক ক্রিয়া-প্রক্রিয়া, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সম্বন্ধে আমাদের প্রচলিত ধারণাকে পরিবর্তিত করে দিয়েছেন। মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি রেখাঙ্কন করা যায়- ফ্রয়েডের যুগের আগে আর ফ্রয়েডের যুগের পরে। যে পরিবর্তন তিনি মনোবিজ্ঞানের জগতে এনেছেন তা যে সবাই স্বীকার বা গ্রহণ করেন, তা নয়।
ফ্রয়েডের অনুরাগীর সংখ্যা যেমন বৃহৎ, তাঁর সমালোচকের সংখ্যাও তেমনি বিশাল। একটুও দ্বিধা না করে বলা যায়, আমরা ফ্রয়েডকে ভালবাসতে পারি, বা ঘৃণা করতে পারি কিন্তু তাঁকে অবহেলা করতে পারি না।
সবচেয়ে আগে পাঠকবর্গকে আমাদের জানানোর প্রয়োজন আছে, এই ধরনের একটি সংকলন প্রকাশে আমাদের উদ্দেশ্যে কী। ফ্রয়েডের পক্ষে ও বিপক্ষে যে বিপুল সাহিত্য আছে তা সাগরোপম। সেটির কয়েক বিন্দুও এ ধরনের সংখ্যায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুতরাং আমরা ফ্রয়েডকে, তাঁর বিশিষ্ট তত্ত্বের মাধ্যমে, তুলে ধরার চেষ্টা করা মনস্থ করলাম। ফ্রয়েডের মনঃসমীক্ষণ তত্ত্ব অত্যন্ত জটিল তত্ত্ব। বিশেষ করে, এই তত্ত্বটির দু'টি দিক রয়েছে- চিকিৎসাগত ও তত্ত্বগত। দ্বিতীয়টি প্রথমটির উপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা চেষ্টা করেছি ফ্রয়েডের রচনার মাধ্যমে, তাঁর প্রবর্তিত তত্ত্বের মূল চিন্তাধারাকে তুলে ধরতে। আমাদের লেখকরা বেশীর ভাগ ফ্রয়েডের মূল রচনার উপর ভিত্তি করেই তাঁদের মতামত প্রকাশ করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই রচনাগুলিতে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দু'টি দিকই প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ কোনো তত্ত্বের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ বা প্রমাণ অনেক সময় ফ্রয়েডীয় পন্থায় মানসিক চিকিৎসালব্ধ তথ্যের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। আমরা ফ্রয়েডের তত্ত্বের সমালোচনায় প্রবেশ করিনি। তবে প্রায় সব লেখকই তাঁর নিজের বিষয় সম্বন্ধে সমসাময়িক মতামত, স্বল্প পরিসরে হলেও, ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছেন।
ফ্রয়েডের মনোবিজ্ঞান শুধু যে মানসিক ক্রিয়া-প্রক্রিয়া ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল তা নয়। ফ্রয়েড নিজে তাঁর তত্ত্বকে শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সাহিত্যের ক্ষেত্রে, প্রয়োগ করেছেন। সাহিত্য-সমালোচনার ক্ষেত্রে ফ্রয়েড প্রবর্তিত মনঃসমীক্ষণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পুনরাবৃত্তির দোষ স্বীকার করেও বলতে হয় যে সাহিত্য সমালোচনা ফ্রয়েডের আগে যা ছিল, ফ্রয়েডের পরে তার রূপ আমূল পরিবর্তিত হয়েছে এবং একথাটি সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক ভাগে প্রযোজ্য।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""