এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো রমণীয় রচনা সম্পর্কে সিরিয়াস প্রবন্ধ পাঠকও উৎসুক। এমন রচনা লেখা আদপে সহজ নয়, যদিও দেখে মনে হয়, এ আর এমনকী! কিন্তু একটি শিল্পোত্তীর্ণ রম্যরচনা লেখা বেশ কঠিন। হালকা হাস্যরসের সঙ্গে পরিমিত তিক্তরস মিশিয়ে, রচনাটি মালার মতো গেঁথে তোলার কাজটি পারঙ্গমস্রষ্টা ছাড়া অসাধ্য। বাংলা সাহিত্যে সার্থক রম্যরচনার রচয়িতা হাতে গোনা কয়েকজন। যদিও তাঁরা রসপিপাসুদের কাছে নিত্যস্মরণীয়। তারাপদ রায় তাঁদেরই সার্থক উত্তরসূরি। কবির কলম পাশে রেখে যখন থেকে তিনি রসরচনা লেখা শুরু করলেন, তখন থেকেই তিনি স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত। কেবল জনপ্রিয়তার নিরিখে নয়, বিপুল, বিচিত্র বিষয়বস্তু নির্বাচন করে চল্লিশ বছর ধরে তিনি যে প্রায় দু'হাজার রম্যরচনার জন্ম দিয়েছেন, তারা রসিক পাঠক-পাঠিকাদের কাছে প্রিয়, প্রিয়তর, প্রিয়তম। মনের কোণে জমে থাকা গোপন অন্ধকার, এক লহমায় রঙ্গের ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে এদের জুড়ি নেই। তাঁর সব রম্যরচনাই বিশুদ্ধ ও মৌলিক, এমন দাবি লেখক নিজেও করেন না। কিন্তু এগুলি লোকশ্রুতির পরম্পরার মতো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান। এই বইয়ে বাছাই করা তিনশো পঁয়ষট্টিটি রম্যরচনা সংকলিত হয়েছে। লেখকের বিভিন্ন স্বাদের রম্যরচনা গ্রন্থ থেকে খুঁজে-বেছে নেওয়া হয়েছে এই রচনাগুলি। লেখক রহস্য করে বলেছেন: 'বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনে পাঠকের জন্য একটি করে রম্যরচনা।' অর্থাৎ সমগ্র বছর জুড়ে পাঠক প্রাণ খুলে প্রতিদিন অন্তত একবার হাসবেন। মানুষের জীবন থেকে যারা হাসি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের চেষ্টা এবার বিফল হবে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""