'শেষ দীর্ঘশ্বাস' লুইস বুনুয়েল এর আত্মজীবনী। রচনাকাল ১৯৮১, যখন বুনুয়েল -এর বয়স ৮১ বছর। প্রায় জীবন সায়াহ্নে পৌঁছে তিনি খাড় ঘুরিয়ে দেখে নিচ্ছেন নিজের গোটা জীবনকে। হয়তো বা বিংশ শতাব্দীর ইউরোপের শিল্প ইতিহাসের একটা বড়ো অংশকেও। উপন্যাসোপম এই আত্মজীবনীতে চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতিম সব মানুষ। চার্লি চ্যাপলিন থেকে সের্গেই আইজেনস্টাইন, আবেল গাঁস থেকে ফ্রিৎজ ল্যাং। কিংবা জঁ করতো থেকে স্যার অ্যালফ্রেড হিচকক। তীক্ষ্ণ রসবোধ আর অন্তরঙ্গ ঠাট্টায় বুনুয়েল লিখছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা কিংবা সালভাদোর দালির কথা। বিতর্কিত তরুণ তুর্কি পাবলো পিকাসোও সেই সময়ের প্যারিসে। আর ১৯২০র সুররিয়ালিস্ট আন্দোলনের সহযোগীরা।
আন্দ্রে ব্রেতো, লুই আরাগ, পল এলুয়ার কিংবা রেনে মাগ্রিত। ভুলে যাওয়া বেঞ্জামিন পেরেত-এর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন বুনুয়েল। কখনো বা ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক অস্থিরতার কাল... স্পেনের গৃহযুদ্ধ... ঠিক তার পরেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ইউরোপে রুজিহীন বুনুয়েল ঘুরে বেড়াচ্ছেন মার্ক্স বর্ণিত ওই অশরীরি ছায়ার মতোই। কখনো লাতিন আমেরিকায়... হ্যাঁ। মেক্সিকোতে। একটানা দীর্ঘ ২০ বছর কাটালেন শুধুমাত্র চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য। এই আত্মজীবনী ধরে রাখল রহস্য প্রিয় এক নাবিকের আদিগন্ত সমুদ্রে ভেসে পড়ার কাহিনি। যখন উপকূল প্রায় দেখা যায় না, এমন কি অন্তরীপও অদৃশ্যপ্রায়...
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""