ভূমিকা
আমার পিতা হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের কিশোর সাহিত্য সমগ্র প্রথম পাঠ আশা করি সকলের পড়া হয়ে গেছে নিশ্চয়ই। গল্পগুলি আপনাদের মনের ভেতর দাগ কেটে গেছে। এটি দ্বিতীয় পাঠ। এতে আছে পাথরের চোখ, বোলতার হুল, রামযাত্রা, রাত গভীর, হলুদ আতঙ্ক, গ্রহ থেকে, শিকার, কৈলাস কাহিনী, জেলেপাড়া যাত্রাপাটি, বাল্লার বাহাদুরী, পিকনিক, হীরুদার গোয়েন্দাগিরি, বাদশার কাণ্ড, সর্পিণী, অমানুষিক, মূর্তির কবলে, এ যুগের রূপকথা, বাঘ-বাঘিনী, মার্জার কাহিনী, সিংহ জাতক, উদ্বন্ধন ও মিঠুর কীর্তি। উপন্যাস ও গল্প নিয়ে বইটি সুন্দরভাবে সাজান হয়েছে।
বোলতার ছলে পারিজাত বক্সি একজন ডিটেক্টিভ। বোলতা একজন ক্রিমিনাল। বিভিন্ন উপায়ে সে চুরি করে বাড়ির লোকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করত। সেরকমই লালীকে কিডন্যাপ করে টাকার জন্য। বাড়ির লোকেরা পারিজাতের স্মরণ নেয়। কিন্তু তা জানতে পেরে বোলতা হুমকি দেয়। তারপর লালীকে পারিজাত বক্সি কি করে আবার তার আত্মীয়দের কাছে ফিরিয়ে দেয় তারই কাহিনী।
পাথরের চোখে বৈশাখী ব্যানার্জী একজন মহিলা ডিটেক্টিভ। একজন ভদ্রলোকের ব্রোঞ্জের তৈরী ময়ূরের চোখের দামী পাথর চুরি যাওয়ায় তিনি বৈশাখীর কাছে আসেন। ভদ্রলোকের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী দিপালী দেবী মঙ্ শান নামে এক দুষ্টু লোকের প্ররোচনায় কিভাবে ময়ূরের চোখের পাথর সরিয়ে ঝুটো কাঁচ বসিয়েছিলেন দিপালী দেবী, বৈশাখী কিভাবে তা বের করেছিলেন তারই রহস্য কাহিনী।
রামযাত্রা হাসির গল্প। তিলক রামযাত্রা নাটকে পয়সা তুলতে পাড়ায় বাড়ি বাড়ি চাঁদা আদায় করে। নাটকের দিন পাড়ার ছেলে বৌদের ভিড় হয়। কিন্তু রামায়ণ করতে গিয়ে সকলে নিজের পাট ভুলে যাতা নাটক করে। শেষ পর্যন্ত মন্থরা ও ভরতের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। লোকেরা এসে ভরতকে ছাড়ায়। সেজন্য সকলে বলে এ রামযাত্রা নয় গঙ্গাযাত্রা।
বন্ধুর বোনের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে খাওয়া শেষে পরিবেশনের কাজে হাত লাগাতে হল। তারপর বাড়ির উদ্দেশ্যে পা বাড়ান। একদিকে বৃষ্টি তার ওপর যানবাহন নেই। অনেক পরে একটা বাস দেখে উঠে পড়লাম। কিন্তু বাসে কেউ জীবন্ত মানুষ নেই। ভীষণ ভয় পেলাম। বিদ্যুৎগতিতে ছিটকে বাইরে পড়লাম। জ্ঞান হতে দেখলাম পুকুরের পাড়ে শুয়ে। রাত গভীর গল্পে বাসে ভূতেদের সঙ্গে ভয়ংকর গল্প দেখতে পাওয়া যাবে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""