বিগত ১৯৮০-র দশকে 'প্রতিক্ষণ' পাক্ষিক পত্রিকা গমগম করিয়া চলিতেছে। তখন তাহার এক প্রাণপুরুষ ছিলেন আমার প্রিয় সুহৃদ প্রথিতযশা লেখক, কবি ও গ্রাফিক শিল্পী পূর্ণেন্দু পত্রী। সেই সময়ে একদিবস পূর্ণেন্দু আমায় তলব করিয়া হুকুম দিলেন যে আমাকে 'প্রতিক্ষণ'-এর জন্য 'স্থান কাল পাত্র' বলিয়া একটি পাক্ষিক কলাম লিখিতে হইবে। একবার কাঁধে জোয়াল চাপাইয়া দিলে যাহা হয়, বাধ্য হইয়া আমার মজ্জাগত জাড্য কাটাইয়া ১৯৮৫ হইতে ১৯৮৬ সালের মাঝামাঝি প্রায় এক বৎসর ধরিয়া উপর্যুক্ত শিরোনামার ছত্রতলে ভিন্ন ভিন্ন নামে কয়েকটি লঘু চালের রচনা সরবরাহ দেই। ইহা ব্যতীত পূর্ণেন্দু স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া তাঁহার স্বকীয় অনুপম ঢঙে আমার অকিঞ্চিৎকর লেখাগুলিকে ছোট ছোট রেখাচিত্র দিয়া অলংকৃত করিতে কসুর করেন নাই। আজ পূর্ণেন্দুর অবর্তমানে আমি তাঁহার পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশে আমার আবেগমথিত শ্রদ্ধা নিবেদন করিতেছি। এই প্রসঙ্গে আর-একটি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এই পুস্তকের আখ্যাপত্রের চিত্তাকর্ষক নকশাটির রচয়িতা হইলেন আমার সোদরপ্রতিম অসামান্য শিল্পী এবং আধুনিক বাংলা পুতুল নাচের এক প্রবর্তক স্বর্গত রঘুনাথ গোস্বামী। ইহা তাঁহার স্ত্রী কল্যাণময়ী শ্রীমতী ভবানী গোস্বামীর সৌজন্যে সম্ভব হইয়াছে। এই পুস্তকটিতে 'প্রতিক্ষণ'-এর কড়ারের বাইরে আরও যে তিনটি সমগোত্রীয় লেখা সন্নিবেশিত হইয়াছে সেগুলি কখন ও কোথায় প্রকাশিত হইয়াছিল তাহার হদিশ যথাযথ স্থানে উল্লেখ করিয়াছি। আরও প্রকাশ থাকুক যে 'লন্ডনের চিঠি'র চিত্রটি শ্রীমতী রমাবাই অঙ্কিত।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""