যে-পালামৌকে সাহিত্যে চিরজীবী করেছেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সেই পালামৌকেই ‘কোয়েলের কাছে’ উপন্যাসে নতুন রূপে সাহিত্য পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেনএ-যুগের শক্তিশালী কথাকার বুদ্ধদেব গুহ। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে শুধু যে পালামৌ-এর চেহারা বদলই ঘটেছে তা নয়, অন্যতর দৃষ্টিও এই সৃষ্টিকে দিয়েছে নবতর মহিমা। বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে, পুরনো পালামৌ-এর এইপ্রবাদ-পরিণত বাক্যটিকে মনে রেখেই আরেকটু এগিয়ে বলা যায়, অন্যরা অন্যত্র সুন্দর, বুদ্ধদেব গুহ জঙ্গলমহলে। সত্যিই অরণ্যে অনন্য বুদ্ধদেব গুহ। তিনি নিজেও একদা লিখেছিলেন, প্রকৃতিই আমার প্রথম প্রেম এবং সবচেয়ে বড় কথা, স্থায়ী প্রেম। তাঁর প্রকৃতি-প্রধান রচনা শুধু রূপের বর্ণনা নয় শব্দ আর গন্ধকেও তিনি অক্ষরে বন্দি করেন এক আশ্চর্য জাদুতে। এই শেষোক্ত জাদুর জন্যই তাঁর লেখার নিজস্ব এক আবেদন, আলাদা এক আকর্ষণ। ‘কোয়েলের কাছে’ বুদ্ধদেব গুহ-র বহু বন্দিত উপন্যাস। প্রকৃতিই এখানে প্রধান চরিত্র সন্দেহ নেই, কিন্তু সেই সূত্রে আর যে-কটি মানুষের উল্লেখ, তারাও কম কৌতুহলকর নয়। মারিয়ানার প্রেম, সুমিতা বৌদির কামনা, লালতির সোহাগ, জগদীশ পাণ্ডের হিংস্রতা, ঘোষদার কৃত্রিমতা আর যশোয়ন্তের আদিমতা—কেবল নদীর মতোই প্রাণবান এক-প্রবাহ। সৌন্দর্যে, রোমাঞ্চে, উৎকণ্ঠায়, আবেগে উজ্জ্বল উপন্যাস‘ কোয়েলের কাছে’।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""