শিল্পী পরিচিতি যতীন্দ্রকুমার সেন ছিলেন দেশের পথপ্রদর্শক বিজ্ঞাপন শিল্পী বা সার্থক কমার্শিয়াল আর্টিস্ট। তিনি ছিলেন একাধারে গ্রন্থচিত্রণ শিল্পী, কার্টুন শিল্পী, রেখা শিল্পী তথা লেখক ও ফটোগ্রাফার।
যতীন্দ্রকুমারের ঘনিষ্ঠ শৈলেন্দ্রকৃষ্ণ লাহ্য তাঁর শিল্প পদ্ধতি সম্বন্ধে বলেছেন 'পাশ্চাত্য কলা পদ্ধতিতে শিক্ষিত এইয়া, পরে ভারতীয় চিত্রকলাকেই তিনি বরণ করিয়া লইয়াছেন। তাই যতীন্দ্রকুমারের কলাচিত্র আধুনিক ভাবে প্রাচ্য নয় বটে কিন্তু সম্পূর্ণরূপে ভারতীয়।' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে যামিনী রায় সকলেই ছিলেন যতীন্দ্রকুমার সেনের চিত্রকলার গুণমুগ্ধ।
প্রখ্যাত সাহিত্যিক রাজশেখর বসু ও গ্রন্থচিত্রণ শিল্পী যতীন্দ্রকুমারের যুগলবন্দি প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- 'লেখনীর সঙ্গে তুলিকার কী চমৎকার জোড় মিলিয়াছে, লেখার ধারা রেখার ধারা সমান তালে চলে, কেহ কাহারো চেয়ে খাটো নহে।' পরশুরামের 'গড্ডলিকা', 'কজ্জলি' প্রভৃতিতে যতীন সেনের ব্যঙ্গচিত্র এখনো লেখাকে রেখায় সরসতা দিচ্ছে। রাজশেখরের প্রতিটি চরিত্রকে রেখায় রেখায় ফুটিয়ে তুলতেন যতীন্দ্রকুমার, আমরা যেন একটির পর একটি চলচ্চিত্র দেখে গেছি যার কাহিনিকার এবং সংলাপকার রাজশেখর- ক্যামেরাম্যান যতীন্দ্রকুমার। বাংলাদেশের সব লেখক, সমালোচক, পাঠক সেদিন সমস্বরে রাজশেখর আর যতীন্দ্রকুমারকে একযোগে প্রশংসা করেছিলেন। তার একমাত্র কারণ, পরশুরামের বইতে লেখা আর রেখা অচ্ছেদ্যভাবে মিশে গিয়েছিল।
চিত্রণ ছাড়াও বিজ্ঞাপনকে একাধারে কীভাবে শিল্প ও সাহিত্য করে তোলা যায় যতীন্দ্রকুমার-রাজশেখরের যুগল-প্রতিভা বাংলা দেশকে প্রথম তার পথ দেখিয়েছিল।
রাজশেখর এবং যতীন্দ্রকুমার যে-যুগে মিলেছিলেন, সেকালে ব্যক্তিপ্রবণতার চাইতেও সামাজিক মননের সমভূমি ঢের বেশি প্রসারিত ছিল; বাংলাদেশের শিল্পী-সাহিত্যিকের চেতনা সেদিন আজকের মতো এক-একটি নিঃসঙ্গতার দুর্গ অধিকার করেনি। তাই তাঁদের লেখায় রেখায় এমন মণি-কাঞ্চন ঘটেছিল, তাই একজন অপরের পরিপূরক হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।
এই এক কথাশিল্পী ও চিত্রশিল্পীর পরস্পরের প্রতি হৃদ্যতার অপূর্ব কাহিনি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""