অনেক পাখি আছে, ইংরাজিতে যাদের বলা হয় migratory-bird.। বিশেষ একটা ঋতুতে তারা তাদের দেশ-ঘর ছেড়ে দল বেঁধে উড়ে যায় অন্য দেশে। পরে আবার ফিরে আসে ঘরে।
এই গ্রন্থে যে-সারসদের কথা আছে তাদের আদি বাসস্থান রাশিয়ার উত্তরাংশে; জায়গাটার নাম 'দি গ্রেট ওস্টাশকোভো মার্শেস'। বিরাট এক জলাভূমি। প্রতি বছর অসহ্য শীত পড়ার আগেই সেখান থেকে ওরা migrate করে, অর্থাৎ দল বেঁধে হাজার হাজার মাইল দক্ষিণ দিকে উড়ে চলে যায় সুদূর লেক্ ভিক্টোরিয়ায়। ওরা চিরগ্রীষ্ম উপভোগ করে।২।
এটা নিছক কাহিনি নয়। এতে শেখার আছে অনেক। তোমরা ছোটরা যেমন বাবা-মা'র কাছ থেকে দেখে-দেখে অনেক কিছু শেখো, শিশু-সারসরাও তেমনি তাদের গুরুজনদের কাছ থেকে শেখে-কি খেতে হয়, কি খেতে নেই; কোথায় যেতে হয়; কোথায় যেতে নেই; কে শত্রু, কে মিত্র প্রভৃতি সব কিছু-যাতে তারা আত্মনির্ভর হতে পারে।
তোমরা যেমন ছোট থেকে বড় হয়ে সমাজে প্রবেশ করো, তোমাদের যেমন নানা নিয়মশৃঙ্খলা মানতে হয়, শিখতে হয়, সারসদেরও তেমন। এই কাহিনিতে সারস-সমাজের আশ্চর্য পরিচয় তোমরা পাবে। ওদের আচার-ব্যবহার মজার, লক্ষ্য করবার মতো। ওদের নিজেদের প্রহরী আছে, নেতা আছে, আর আছে স্কাউট। অচেনা জায়গায় রাত কাটাবার সময় শত্রুর হাত থেকে বাঁচবার জন্য এক চোখ চেয়ে ঘুমোয়, পালা করে পাহারা দেয়। একসঙ্গে একঝাঁকে ওড়া সামাজিক দিক দিয়ে যে কত প্রয়োজন তা তারা বোঝে। ভিন্দেশে পাড়ি জমাবার সময় ওরা ওদের দলকে ত্রিভুজে ভাগ করে নেয়। এই ত্রিভুজ বিশেষভাবে লক্ষ্য করার জিনিস। প্রতি ত্রিভুজের জন্য একজন করে নেতা নির্বাচিত হয়। সামনের নেতা ওড়ার সময় যে হাওয়া কাটে সেটা কাজে লাগায় ত্রিভুজের পিছনের সবাই। সকলকে সমান সুযোগ দেবার জন্য আবার প্রত্যেকে পালা করে সামনে ওড়ার দায়িত্ব নেয়। দলের কেউ অসুস্থ হলে দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, তাকে সাবধানে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন কি, প্রয়োজন হলে গোটা দল তখন স্থির করে স্বল্প-পাল্লা ওড়া ও ঘন ঘন বিশ্রাম নেওয়া।
কোনো জায়গায় বিশ্রাম করার জন্য অবতরণের আগে স্থানটা নিরাপদ কিনা নানাভাবে খুঁটিয়ে দেখে নেয়। সঙ্গী বন্ধু কেউ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে বা অন্য কোনো
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""