সেই কোন ছোটবেলায় পড়েছিলাম ভৌতিক পালঙ্ক। রূপকথার রাক্ষস খোক্কস দত্যি-দানো পেরিয়ে সেই প্রথম গল্প পড়ে ভয় পাওয়া শুরু। ক্রমশ ভয়াল-ভৌতিক-অলৌকিক জঁর আমাকে আস্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরল। গল্প পড়ে ভয় পেতে, এবং ভয় পাওয়াকে ভালোবাসতে শুরু করলাম।
তারপর কখন কে জানে এক সময় এই জঁরের সাহিত্য থেকে দূরে যেতে শুরু করেছি নিজেই জানি না। অথচ এই জঁর চিরকাল পাঠককে আকর্ষণ করে এসেছে। প্রখ্যাত লেখক অভীক সরকার একদা এক ব্যক্তিগত পরিসরে আলাপ আলোচনায় বলেছিলেন- 'পাঠক ভয় ব্যাপারটাকে চাদরের মতো জড়িয়ে ধরতে ভালোবাসে, তাই শব্দ সাজিয়ে ভয়াল বাতাবরণ সৃষ্টি করাও এক রসোত্তীর্ণ সাহিত্য হিসেবে দেশ-কাল নির্বিশেষে জায়গা করে নিয়েছে।'
আমার লেখালিখির জগতে এসে পড়া নেহাতই ঘটনাক্রমে, আচম্বিতে। মাঝে মাঝে যখন বিগত চারবছরের পথচলা ফিরে দেখি
আর আশ্চর্য হয়ে যাই। একে একে সাতটি বইয়ের মলাটে লেখক হিসেবে আমার নাম আছে, এ আমার কাছে স্বপ্ন মনে হয়। আরও অবাক লাগে যখন দেখি যে এই ভয়াল-ভৌতিক-অলৌকিক ঘরাণার লেখাও এই চার বছরের লেখালিখির জীবনে কম লিখলাম না। আমার ধারণাই ছিল না যে এই ধরণের কাহিনি আমার দ্বারা লেখা সম্ভব। কিন্তু যখন এই সংকলনের জন্য কাহিনি বাছতে বসলাম- তখন দেখলাম নয় নয় করে পঞ্চাশ-ষাটটি গল্প বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। বলা যায় যে- বিভিন্ন সময়ে বন্ধুবর ও সহলেখক অভিজিৎ পাঁজা, দীপ্তেন্দু ঘোষ, সম্পাদক দেবাশীষ গোস্বামী, সুখরঞ্জন তালুকদার, অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভগিনীসমা সুলগ্না ব্যানার্জী প্রভৃতি মানুষদের অনুরোধ ও চাপে এই গল্পগুলির জন্ম।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""